কাউখালীতে ৪০ কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ না করে ঠিকাদার উধাও/ভোগান্তির জনগণের
আপডেট সময় :
২০২৫-০৪-০৫ ১৮:৪৬:৩৫
কাউখালীতে ৪০ কোটি টাকার উন্নয়নের কাজ না করে ঠিকাদার উধাও/ভোগান্তির জনগণের
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি। পিরোজপুরের কাউখালীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিইআরইডির বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৪০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ রাস্তা, গার্ডার ব্রিজ, সাইক্লোন সেল্টার, ড্রেন নির্মাণ, সহ ২৫ থেকে ৩০টি প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পরে ঠিকাদার নিরুদ্দেশ হয়ে পড়ে। ফলে এই সমস্ত উন্নয়ন কাজগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ।
এই সমস্ত রাস্তা ও ব্রিজগুলো মানুষ চলাচলে জন্য অনুপযোগি হয়ে পড়লে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তর এ সমস্ত উন্নয়ন কাজ করার জন্য টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্য আদেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কিছু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনুমানিক কাজের মাত্র ৫০ ভাগ সমাপ্ত করে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। ফলে পরিপূর্ণ ভাবে কাজগুলো বাস্তবায়িত না হলে সাধারণ মানুষের কোন উপকারে আসছে না। আবার কিছু কিছু রাস্তা খোঁড়াখুড়ি করে ইট বালুর খোয়া ফেলে রেখেছে। কোথাও কোথাও ব্রিজ ভেঙ্গে পাইলের কাজ শেষ করে ফেলে রেখেছে কাজ। যার ফলে মানুষের গাড়িতে চলা তো দূরের কথা পায় হেঁটে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ এই সমস্ত কাজের অধিকাংশ টাকা তুলে নিয়ে লাপাতা হয়েছে ঠিকাদার এমন অভিযোগ সকলের মুখে মুখে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাথে কথা বললে, তাদের মাধ্যমে কোন নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যায় না। এই কাজগুলো যেসব প্রকল্প অধীনে বাস্তবায়নে কথা ছিল তা হল জিওবি, এম, বিজেপি, আইবিআরপি, আর আই ডি পি ৩, সিসিটিএফ, এম ডিএসপি, আই পি সি পি, পি ডি আর আই ডি পি এবং ডি আর আর আই ডব্লু পি প্রকল্প। এরমধ্যে জি ও বি এম, প্রকল্প অধীনে আস্পদ্দি- দাসেরকাঠি সড়কের ৬১ লক্ষ টাকা কাজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজ শুরু করেননি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। বি জে পি প্রকল্পের অধীনে মোল্লারহাট সাপলেজা সড়ক, পারসাতুরিয়া আদম আলী ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক ও ব্রিজের কাজ ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল অর্ধেকের বেশি কাজ ফেলে রেখেছেন। যাতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। এছাড়া আই বি আর পি প্রকল্পের অধীনে শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দের গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কাজটি পাইলিং কাজ করে ফেলে রেখেছে ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড অথচ এই কাজ ২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এছাড়াও, পার সাতুরিয়া সালেকিয়া মাদ্রাসার সংলগ্ন গার্ডার ব্রিজ, সয়না রঘুনাথপুর শাজাহান মাস্টারের বাড়ির সামনে গার্ডার ব্রিজ, জয়কুল খেয়া ঘাট গার্ডার ব্রিজ, চিরাপাড়া সুবিদপুর রোডে গার্ডার ব্রিজ, জোলাগাতি ফলইবুনিয়া সড়কে গার্ডার ব্রিজ, সদর ইউনিয়নের কেউন্দিয়া সড়কে ডাক্তার মোফাজ্জল হোসেনের বাড়ি সংলগ্ন থেকে উত্তর কেউন্দ্রিয়া সাইক্লোন সেন্টার কাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে মজিদ মৃধা চেয়ারম্যান বাড়ি পর্যন্ত সড়কের সংস্কারে কাজ, গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সবগুলো কাজই অর্ধেকের করে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। আই আর আইডিপি প্রকল্পের অধীনে উপজেলার চিরাপাড়া জি এম স্কুল - ডুমজুরি সড়ক উন্নয়নের কাজটি মেসার্স ফয়সাল এন্টারপ্রাইজ লাইসেন্সে ২০২০ সালে বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও আংশিক কাজ করে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
অপর দিকে, এই প্রকল্পের অধীনেই ইফটি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড হোগলা বেতকা বাজার হয়ে পুলেরহাট সড়ক উন্নয়ন, কাজটিও ২৩ সালে শেষ করার কথা থাকলেও অর্ধেক পরিমাণ কাজ করে ফেলে রেখেছেন। একই ইউনিয়নের ইজিএস শিক্ষা নিকেতন হইতে ধাবড়ী বাজার পর্যন্ত সড়কটির করুণ অবস্থা, রাস্তার মাঝে বড় গর্ত হয়ে গেছে। উক্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হবার পথে। যার ফলে এই সমস্ত এলাকার সাধারণ মানুষসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এছাড়াও, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে শিয়ালকাঠি দারুদ সুন্নাত কামিল মাদ্রাসার সাইক্লোন সেলটার নির্মাণ এবং সোনাকুর ফেরিঘাট সড়ক নির্মাণের কাজ ১৮-১৯ সালে শেষ করার কথা থাকলেও কাজ সমাপ্ত না করাই ফেলে রেখেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এম ডিএসপি প্রকল্পের অধীনে উত্তর কেউন্দিয়া স্কুল সাইক্লোন সেল্টার নির্মাণ কাজটি m/s MR kE ksa(jv)ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আংশিক কাজ করে ফেলে রেখেছে।
এছাড়াও পি ডি আর আই ডি পি প্রকল্পের অধীনে উত্তর বাজার কেউন্দিয়া সড়ক, শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন পরিষদ তালুকদার হাট সড়ক, জয়কুল হইতে আয়রন দাখিল মাদ্রাসা সড়ক, হোগলা হাইস্কুল থেকে নান্না মেম্বার এর বাড়ি পর্যন্ত সড়ক, চিড়াপাড়া সুবিদপুর সড়ক, রঘুনাথপুর মেঘ পাল সড়ক নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নামে মাত্র কাজ শুরু করে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড। এভাবেই কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় প্রায় ২৫ থেকে ৩০প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। এই সমস্ত কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয় নাই। এরা বেশিরভাগই পলাতক আছেন।
তবে যে পরিমাণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। যে কারণে এই সমস্ত কাজ পুনরায় তারা করবে কিনা এ নিয়েও নানা সন্দেহ দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এবিষয় কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী মো: ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত কাজ সমাপ্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়াও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বিষয়টি মনিটরিং করছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স